গণঅভ্যুত্থানে শহিদ খুলনার শেখ সাকিব রায়হান

কাজী মোতাহার রহমান

খুলনা নগরীর ১৮ নং ওয়ার্ডের গোলাম মোক্তাদির সড়কের নবপল্লী এলাকার এক তরুণ শেখ সাকিব রায়হান। পিতা শেখ আজিজুর রহমান মুদি দোকনি আর মা নূরনাহার ছিঁট কাপড় ব্যবসায়ী। পরিসংখ্যান ব্যুরোর মাস্টার রোলের কর্মচারী তিনি। ২০০২ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তার জন্ম।

ঢাকাস্থ মিরপুর বায়তুল সবুর মাদ্রাসা থেকে হাফেজ হওয়ার প্রত্যাশায় ১৮ পারা শেষ করেন। এক দফার আন্দোলনে তিনি মিরপুরের ১০ নম্বরে হাজারও জনতার মিছিলে অংশ নেন। দিনটি ১৯ জুলাই। কর্মজীবীদের সাথে মিরপুর ১০ নম্বরে এক মেসে থাকতেন। পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের এক সংঘর্ষে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তার বুকের ডান পাশ দিয়ে গুলি ঢুকে পিঠ দিয়ে বের হয়ে যায়। রাজধানীর শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। বিকেল আনুমানিক ৫টা নাগাদ তার মৃত্যু হয়। রাতেই লাশ খুলনায় আনা হয়। ২০ জুলাই ফজরের নামাজের পর স্থানীয় বসুপাড়া কবর স্থানে তার দাফন হয়।

কোটাবিরোধী হাজারও মানুষের আন্দোলনে ছেলে শহিদ হওয়ার পর গর্ভধারিণী মা বলেন, নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তার সন্তান জীবন দিয়েছেন। এতে তার কোন দুঃখ নেই। এ আন্দোলনে শত শত মা তাদের সন্তান হারিয়েছে। সন্তানের মৃত্যুর সংবাদের পর তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এ পরিবারকে দু’লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়। কেসিসির তৎকালীন প্রশাসক মোঃ ফিরোজ সরকারের আন্তরিকতার ফসল হিসেবে এ শহিদের নাম অনুসারে ২৬নং ওয়ার্ড অফিস ও কমিউনিটি সেন্টারের নামকরণ করা হয়।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন